রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মুন্সীগঞ্জে নৌ পুলিশের অভিযানে ৩ লক্ষ টাকার কারেন্ট জাল ও মা ইলিশ জব্দ মুসলিমদের জোরপূর্বক উলঙ্গ করছে চীন, খাওয়াচ্ছে ‘অজ্ঞাত’ ওষুধ করোনার এই দুঃসময়ে মানুষ যখন মানুষের পাশে তখন মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছেন ফার্মেসীর কিছু সংখ্যক লোভী ব্যক্তিরা বর্তমানে কিভাবে কাটছে ইউটিউব চ্যানেল থেকে টিভি চ্যানেলে আসা সেই নতুন মুখ-কমেডিয়ান মিজানের অবশেষে মুক্ত হলেন রায়হান কবির মুন্সীগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, শীর্ষ ব্যবসায়ীদের নাম ফাঁস  ওসি প্রদীপ সহ ৩ জনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে ঢাকা বিমান বন্দরের ফ্লোরে বসে আবুধাবি ফেরত যাত্রীদের বিক্ষোভ! মুন্সীগঞ্জে জেলা যুবলীগের উদ্যােগে ১৫আগষ্ট উপলক্ষে শোক র‌্যালী রাম মন্দির বানানোর নির্দেশ দেওয়া প্রধান বিচারপতি আজ করোনায় আক্রান্ত রঞ্জন গগৈ
নোটিশ
দৈনিক জাগো বিবেক - প্রকাশক ও সম্পাদক - মোহাম্মদ আলী রুবেল - +৯৭১৫৫৭৭৪৯৬৬৮ - সত্যের পথে নির্ভীক মোরা - আমরা সদাসর্বদা সত্য প্রচার করি

মুন্সিগঞ্জ জেলার জ্ঞান চর্চার প্রান কেন্দ্র”বজ্রযোগিনী জে,কে, উচ্চ বিদ্যালয়

জাগো বিবেক ডেক্স / ৫০৮ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ৩ জুন, ২০২০, ৭:৪৫ পূর্বাহ্ন

মুন্সিগঞ্জ জেলার জ্ঞান চর্চার প্রান কেন্দ্র “বজ্রযোগিনী জে,কে, উচ্চ বিদ্যালয়” ১৮৮৩ খ্রীষ্টাব্দে বজ্রযোগিনীর গুহপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়। মহান দানবীর,বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী গুহপাড়ার তৎকালীন জমিদার বাবু জয় কিশোর গুহ ও বাবু কালী কিশোর গুহ ভ্রাতৃদ্বয় বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। “বজ্রযোগিনী জে,কে, উচ্চ বিদ্যালয়” এর ইতিহাস সুদূর প্রাচীন। এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন অসংখ্য বুদ্ধিজীবি ও আন্তর্জাতিক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। সূচনায় যিনি গোড়া পত্তন করেছিলেন তিনি হচ্ছেন আলোকিত মানুষ গধাই মাষ্টার। তিনি দীর্ঘদিন (এক যুগের বেশী) গধাই মাষ্টারের পাঠশালা নামে স্কুলটি পরিচালনা করেন। তার অবর্তমানে প্রথমত এ স্কুলটি শংকর বন্দের উমাকান্ত ঘোষের বাড়ীতে গভর্নমেন্ট সার্কেল স্কুল রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর দু-চার বছর পর স্কুলটি আটপাড়ার বসুদের বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। এর এক বছর পর স্কুলটি গুহপাড়ার জমিদার বাবু বসন্ত কুমার গুহের /বাবু জয় কিশোর গুহের বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। বজ্রযোগিনী জে,কে, বহুমুখী উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয় নামে বিদ্যালয়টি আত্ম প্রকাশ ঘটলেও ১০.০৭.১৯৪১ ইং তারিখ বজ্রযোগিনী জে,কে, উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয় নামে ১৮ ই নভেম্বর ১৯৪০ ইং তারিখ থেকে ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ১ম স্বীকৃতি লাভ করে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত বর্তমানে বিদ্যালয়টির নাম “বজ্রযোগিনী জে,কে, উচ্চ বিদ্যালয়” ।

অম্বিকা চরণ ঘোষ প্রথম প্রধান শিক্ষকের সম্মান লাভ করেন এবং শ্রীযুক্ত বাবু গিরিশ চন্দ্র গুহ সেক্রেটারী পদে আসিন হন। প্রায় ১০ জন শিক্ষক নিয়ে আরম্ভ হওয়া বিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের সাথে অতিবাহিত হতে থাকে। কিন্তু সময় ও কালের গর্ভে বিলীন হতে থাকে বিদ্যালয়ের শত বছরের অর্জিত সাফল্য ও ঐতিহ্য। বিদায় হল বাংলার পূর্ণ ভূমি থেকে বৃটিশ আর পাক শাসক গোষ্ঠী। মহান ভাষা আন্দোলনের অভিজ্ঞতায়, মুক্তিবাহিনীর অদম্য সাহসিকতায় বাঙ্গালী তথা বাংলাদেশ পেল স্বাধীনতা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়েই কেন জানি ঘাটতি, স্থবিরতা দেখা দেয়। ফলে আস্তে আস্তে স্কুলের মান অবনতি হতে থাকে।

প্রতিষ্ঠা লগ্নের আয়তাকার মূল ভবনটি খুবই আকর্ষনীয় ছিল। প্রধান ফটক ছিল পুকুরের মধ্যখানের পশ্চিম দিকের ঘাটলা সোজা। ফটক দিয়ে ঢুকলেই বামে ছিল প্রধান শিক্ষক মহোদ্বয়ের কক্ষ আর ডানে ছিল ১০ম শ্রেনীর শ্রেনী কক্ষ। পূর্ব দক্ষিন কোনের রুমে চলত ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। দক্ষিন দিকে বাহির দিয়ে সে রুমে ঢুকার জন্য একটি দরজাও ছিল। দক্ষিন পশ্চিমের দরজা দিয়ে ১৫ গজ দূরে ছিল ৪টি ঝুলন্ত শৌচাগার। শৌচাগারের সাথে পূর্ব দিকে মিলানো ৩টি খোলা মূত্রাগার ছিল। যা ছাত্ররা ব্যবহার করত। পশ্চিম উত্তর কোনের রুমে ৩য় শ্রেনীর ক্লাশ হত। এ রুমের উত্তর পাশে একটি দরজা ছিল। পর্ব বা অনুষ্ঠান উৎসবে রুমটি গ্রীন রুম হিসাবে ব্যবহার হত। উত্তর দিকের সকল রুমের পাটিশন খুলে তৈরী হত বিশালাকার হলরুম। উত্তর পূর্ব পাশের ২য় গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হত নিচের ক্লাশের শিক্ষার্থীদের। দ্বিতীয় গেটের বাহিরে পুকুর কোনে ছিল বুড়ির ঘর। সেখানে ইসলামিয়াত ক্লাশ হত। বর্তমান প্রধান বা প্রথম গেটের নিচে ছিল খাল। খালের উপর ছিল পুল। আয়তাকার ভবনের ভিতরে চতুর্দিকে ছিল চওড়া বারান্দা। মধ্যখানে বিরাট খোলা মাঠ। মাঠেই হত সমাবেশ। খেলাধুলার অনেকটাই এখানে চলত। ভিতরের মাঠের উত্তর পশ্চিম কোনে ছিল বিশাল শহীদ মিনার। শহীদ মিনার ঘেঁসে পশ্চিমে ছিল পানীয় জলের আধার একমাত্র নলকুপ। একুশে ফেব্রুয়ারী অর্থাৎ জাতীয় দিবস গুলোতে হত কবিতা আবৃতি, প্রবন্ধ পাঠ, গান হত অভিনয়। বিদ্যালয় অঙ্গন থাকত সারাক্ষণ উচ্ছাসে মুখরিত। কি প্রেম ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মাঝে। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া অতীত আর ফিরে আসবে না। অতীত স্মৃতির অভিজ্ঞতায় এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে শিক্ষার দ্যুতি ছড়িয়ে দিচ্ছে বিক্রমপুরের দ্বিতীয় প্রাচীনতম বিদ্যাপিঠ “বজ্রযোগিনী জে,কে, উচ্চ বিদ্যালয়”।

শিক্ষা-সংস্কৃতি, ক্রীড়া-কৃষ্টি, জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জের আলোকবর্তিকা শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্করের জন্ম ভিটা বজ্রযোগিনীর রয়েছে বিশ্বজোড়া পরিচিতি, রয়েছে খ্যাতি। এ মাটিতে জন্ম গ্রহণ করেছেন অসংখ্য শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবি, বিজ্ঞানী, গবেষক, বিতার্কিক, ক্রীড়াবিদ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী যারা আপন মহিমায় বজ্রযোগিনী জে,কে, উচ্চ বিদ্যালয়কে করেছেন আরও আলোকিত। আমাদের প্রত্যাশা, আপন আলোয় সমৃদ্ধি পথে এগিয়ে যাবে “বজ্রযোগিনী জে,কে, উচ্চ বিদ্যালয়,মুন্সিগঞ্জের সবচেয়ে সুন্দর সবুজ ছায়াগেরা এই বজ্রযোগিনী জে কে উচ্চ বিদ্যালয়,কয়েকশত বসর আগের পুকুর খেলার মাঠ দেখলে প্রাণ জুরিয়ে যায়।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com